রাসুল (সাঃ) বলেন ঃ একবার হযরত খিজির (আঃ) বনী ইসরাইলের কোন বাজারে ঘোরাফিরা করছিলেন।এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তার কাছে এসে এভাবে আবেদন জানায়ঃ‘‘হে আগন্তুক! আমি একজন ক্রীতদাস। আমার মনিব আমাকে চারশো’ দিরহামের বিনিময়ে মুক্তি দেয়ার প্রতুশ্রুতি দিয়েছেন। এখন আমি এই মুক্তিপন সংগ্রহের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।আপনার কাছে কিছু সাহায্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন।’’হযরত খিজির বললেন ঃআল্লাহর যা ইচ্ছা সেটা একভাবে সম্পন্ন হবেই আমার কাছে তোমাকে দেওয়ার মত একটি কানাকড়িও নেই। আমাকে মাফ কর।’’ ক্রীতদাসটি পুনরায় বললোঃআমি আল্লাহর দোয়াই দিয়ে আপনার কাছে কিছু সাহায্য চাই। আপনার মুখমন্ডলে একজন দানশীল ও মহানুভব ব্যক্তির লক্ষণ পরিষ্ফ ুট। আল্লাহ আপনাকে অশেষ বরকত দান করুন। খিজির আবারো নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করে বললেনঃতুমি আমাকে একটি দাস হিসাবে বাজারে বিক্রি করে যে অর্থ সংগ্রহ করতে পারো,কর।এ ছাড়া আর কোন ভাবে তোমাকে সাহায্য করতে আমি সক্ষম নই।’’ক্রীতদাসটি বললোঃ‘‘এটা কি সমিচীন হবে?’’ খিজির বললেনঃ অবশ্যই,তুমি একটি গুরুতর বিপদে পড়ে আমার সাহায্য চেয়েছ।আমি তোমাকে বঞ্চিত করতে চাই না।তুমি আমাকে বিক্রী কর।” এরপর লোকটি তাকে বাজারে নিয়ে যায় এবং চারশো দিরহামে বিক্রি করে ।যে ব্যক্তি হযরত খিজিরকে কিনে নিয়ে যায়, সে তাকে কোন কাজে না লাগিয়ে অতিথির মত যত্নে রাখে।কিছুদিন পর হযরত খিজির তাকে বললেনঃ আপনি আমাকে নিজের কাজকর্মের জন্যই কিনে এনেছেন।অথচ কোন কাজ করতে দিচ্ছেন না ।এ কেমন কথা।আমাকে কাজের আদেশ দিন।’’
মনিব বললোঃ আপনি একজন বয়োবৃদ্ধ প্রবীণ ব্যক্তি।আপনাকে কাজে খাঁটিয়ে কষ্ট দেয়াটা আমার অপছন্দ।” হযরত খিজির বললেনঃআমার কোন কষ্ট হবে না।আপনি আদেশ করে দেখুন।’’তখন মনিব বললোঃ ‘‘বেশ তাহলে এই পাথরটি সরিয়ে ওখানটাই রাখুন।’’আদেশ দিয়ে মনিব বিশেষ কাজে বাইরে গেল। পাথরটি এত বিরাট ও ভারী ছিল যে,ছয়জন মানুষ একটানা সারাদিন পরিশ্রম করা ছাড়া তা সরানো সম্ভব ছিল না। অথচ একঘন্টা পরে মনিব ফিরে এসে দেখে,বৃদ্ধ ক্রীতদাস একাই পাথর যথাস্থানে সরিয়ে রেখেছে।সে বললোঃ‘‘আপনি চমৎকার কাজ করেছেন।এত বড় শক্ত কাজ করার ক্ষমতা আপনার আছে,তা আমার ধারণারও বাইরে ছিল। কিছুদিন পর মনিবের প্রবাসে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দিল ।সে হযরত খিজিরকে বললোঃ“আমি আপনাকে একান্ত বিশ্বস্ত,সৎ ও আমানতদার লোক মনে করি । আমার অবর্তমানে আপনি আমার পরিবার পরিবার পরিজনকে ন্যায়সংগত আচরণ সহকারে দেখাশুনা ও তত্বাবধান করবেন।’’বৃদ্ধ ক্রীতদাস বললোঃ আর কোন কাজ থাকলে তাও বলে যান।’’সে বললঃ আপনাকে বাড়তি কষ্ট দেয়া আমার মনোপুত নয়।’’
ক্রীতদাস বলল,আমার কোন কষ্ট হবে না।অগত্যা মনিব বললো ঃবেশ,তাহলে আমার ঘরের ভিত তৈরীর অপেক্ষায় রয়েছে। আপনি কিছু ইট লাগিয়ে কিছুটা ভিতের কাজ করে রাখবেন।’’এরপর মনিব সফরে বেরিয়ে গেল। সফর থেকে ফিরে সম্পুর্ণ ভিত তৈরী হয়ে গেছে দেখে সে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গেল ।এবার সে তার বৃদ্ধ কৃতদাসকে বললঃআল্লাহর দোহায়,আপনি কে এবং আপনার রহস্য কি আমাকে খুলে বলুন।’’ হযরত খিজির বললেন,আপনি যেমন আল্লাহর দোহাই দিয়েছেন,তেমনি আল্লাহর দোহাই দিয়ে অন্য একজনের প্রার্থনাই আমাকে এই দাসত্বের পর্যায়ে পৌছিয়েছে।আমি কে সে কথা আপনাকে জানিয়ে দিচ্ছি। আমি খিজির।আমার নাম আপনি নিশ্চয় শুনে থাকবেন।দেয়ার মত একটি কপর্দকও তখন আমার কাছে ছিল না।তাই অক্ষমতা জানালাম।কিন্তু সেই নাছোড়বান্দা আমাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে পুনরায় মিনতি জানালো কিছু সাহায্যের জন্য।তখন আমি নিজেকে তার মালিকানায় সোপর্দ করি ।অতঃপর সে আমাকে বাজারে বিক্রি করে ।আমি আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে,যে ব্যক্তির কাছে কোন অসহায় ব্যক্তি আল্লাহর দোহাই দিয়ে কোন সাহায্য চাইবে এবং সে দিতে সক্ষম হয়েও তাকে বঞ্চিত করবে,সে কিয়ামতের দিন অত্যন্ত জীর্ণশীর্ণ হাড্ডিসার অবস্থায় উঠবে। এ কথা শোনার পর মনিব বললো ‘‘আমি আল্লাহর ও আপনার ওপর ঈমান এনেছি।হে আল্লাহর নবী !না জেনে শুনে আপনাকে কষ্ট দেয়ায় আমি অনুতপ্ত।’’হযরত খিজির বললেন”তাতে আপনার কোন দোষ হয়নি।আপনি যা করেছেন সততার সাথে ও সুষ্ঠ ুভাবেই করেছেন।’’মনিব বললোঃহে আল্লাহর নবী! আপনি আমার সহায় সম্পদ ও পরিবার পরিজন সম্পর্কে যেমন ভালো মনে করেন,আদেশ দিলে আমি তদনুযায়ী কাজ করবো,নচেত আপনি মুক্তি চাইলে মুক্ত করে দেবো।’’ হযরত খিজির বললেনঃ আমার প্রত্যাশা এই যে ,আমাকে মুক্তি দিন যাতে আমি নিজের আসল মনিব আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত হতে পারি ।’’অতঃপর লোকটি তাকে মুক্ত করে দিল ।তখন হযরত খিজির বললেনঃমহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।যিনি আমাকে মানুষের গোলামির বন্ধনে আবদ্ধ করার পর তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন।’’ (তাবরানী-তারগীব ও তারহীব) শিক্ষাঃউল্লেখিত কেসসাটি থেকে এই শিক্ষা পাওয়া যায় যে ঃ ১. কোন অধিনস্ত ব্যক্তি বেশভূষায় যত মামুলী ও নগন্য মনে হোক না কেন, বয়সে প্রবীণ ও আচরণে ন্যায়পরায়ণ হলে তার সাথে শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করতে হবে এবং তার দৈহিক খাটুনি যথাসম্ভব কমিয়ে দিতে হবে।ইসলামের ইতিহাসে এমন অজস্র দৃষ্টান্ত রয়েছে যে চরিএবান ব্যক্তি দাস বংশোদ্ভুত বা স্বয়ং কোন ক্রীতদাস হলেও তাকে সমাজ ও রাষ্ট্রে যথোপযুক্ত মর্যাদাপূর্ণ আসন দান করা হয়েছে।এ ধরনের ব্যক্তি খিলাফতে রাশেদার আমলে রাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি,সেনাপতি,মুফতি ও মুহাদ্দিস এবং ভারতে দিল্লির শাহী মসনদে ও আসীন হয়েছেন। ২.বিশেষতঃকোন দুস্থ ব্যক্তি যদি আল্লাহর দোহাই দিয়ে কোন সাহায্য প্রার্থনা করে ,তাহলে তাকে কিছুতেই খালি হাতে ফিরিয়ে দেয়া উচিত নয়।কারণ তার আল্লাহর দোহাই দেয়ার অর্থ এও হতে ফিরিয়ে দেয়া উচিত নয়।কারণ তার আল্লাহর দোহাই দেয়ার অর্থ এও হতে পারে যে সে নিজের অভাবের সত্যতা প্রমাণের জন্য আল্লাহর নামে শপথ করছে বা আল্লাহকে সাক্ষি হিসাবে পেশ করছে।কাজেই তাকে বঞ্চিত করার অর্থ হবে তার শপথকে অগ্রাহ্য বা অবমাননা করা। তবে যার কাছে প্রার্থনা করা হয় , সে ব্যক্তি স্বয়ং অভাবি বা অসমর্থ হলে সেটা অবশ্য নিজের কথা। ৩.মানুষ মূলতঃএকমাএ আল্লাহর গোলাম বা দাস।কোন মানুষের গোলামী-চাই তা ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত যেভাবেই হোক না কেন, তা তার জন্য এক শোচনীয় অভিশাপ ছাড়া আর কিছু নয়। তাই যে কোন মানুষের গোলামি -চাই তা ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত যেভাবেই হোক না কেন,তা তার জন্য এক শোচনীয় অভিশাপ ছাড়া আর কিছু নয়।তাই যে কোন মানুষের গোলামি বা পরাধীনতা ঘুচানো ও তাকে স্বাধীন মানুষের মর্যাদা দানের জন্য সাধ্যমত সব কিছু করা ও সব রকমের ত্যাগ স্বীকার করা প্রত্যেক মানুষেরই কর্তব্য। ৪. নিয়োগকারীর যেমন কর্তব্য শ্রমিক ও কর্মচারীদের সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য না করা,তেমনি শ্রমিক কর্মচারীদেরও উচিৎ কাজে ফাঁকি না দেয়া এবং যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা । অধিনস্তদের ওপর ক্ষমতার অতিরিক্ত কাজ চাপানো যেমন গুনাহ .তেমনি বেতনভুক কর্মচারীরা কাজে ফাঁকি দিয়ে বেতন ও পারিশ্রমিক গ্রহণ করলে তা হারাম ও অবৈধ উপার্জনে পরিণত হবে। ৫.পরোপকার ও জনসেবা চিরদিন আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ ও নবীগণের একটি মহান ব্রত।আলোচ্য ঘটনায় আল্লাহর নবী হযরত খিজির ক্রীতদাসের ছদ্মবেশ ধারণ করে একজন দাসকে মুক্ত করার যে অভিনব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন,তা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অনুকরণীয়।হযরত ঈসা ,হযরত ইব্রাহিম এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সহ প্রায় সকল নবীর জীবনে আমরা এ ধরনের মহানুভবতার নজীর দেখতে পাই।কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় এই শিক্ষার প্রভাব ক্রমশঃ লোপ পেতে চলেছে।ফলে দরিদ্র মুসলমানগণ সর্বএ নিগৃহিত ও খৃষ্টান ধর্মযাজকদেরভন ও প্রতারণার শিকার হচ্ছে। হযরত মূসা (আঃ) ও খিযিরের কাহিনীঃ সহীহ,বোখারী ও মুসলিমে হযরত উবাই ইবনে কা ’বের রেওয়ায়েতে ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ একদিন হযরত মূসা (আঃ) বনী- ইসরাঈলের এক সভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন।জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করলঃসব মানুষের মধ্যে অধিক জ্ঞানী কে?হযরত মূসা (আঃ) এর জানামতে তার চাইতে অধিক জ্ঞানী আর কেউ ছিল না।তাই বললেনঃ আমিই সবার চাইতে অধিক জ্ঞানী।আল্লাহ তাআলাই তার নৈকট্যশীল বান্দাদেরকে বিশেষভাবে গড়ে তোলেন।তাই এ জওয়াব তিনি পছন্দ করলেন না। এখানে বিষয়টি আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়াই ছিল আদব।অর্থাৎ একথা বলে দেয়া উচিত ছিল যে, আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন,কে অধিক জ্ঞানী।আল্লাহ তাআলা তার এ জওয়াব তিনি পছন্দ করলেন না ।এখানে বিষয়টি আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়ায় ছিল আদব। অর্থাৎ একথা ছেড়ে দেওয়ায় ছিল আদব। অর্থাৎ,একথা বলে দেয়া উচিত ছিল যে,আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন, কে অধিক জ্ঞানী। এ জওয়াবের কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে মূসা (আঃ)-কে তিরষ্কার করে ওহী নাযিল হল যে,দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে অবস্থানকারী আমার এক বান্দা আপনার চাইতে অধিক জ্ঞানী।একথা শুনে মুসা (আঃ) প্রার্থনা জানালেন যে,তিনি অধিক জ্ঞানী হলে তার কাঁছ থেকে জ্ঞান লাভের জন্য আমার সফর করা উচিত।তাই বললেনঃথলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে নিন এবং দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলের দিকে সফর করুন।যেখানে পৌছার পর মাছটি নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে,সেখানেই আমার এই বান্দার সাক্ষাত পাবেন।মুসা (আঃ) নির্দেশমত থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেলেন।তার সাথে তার খাদেম ইউশা ইবনে নুনও ছিল।পথিমধ্যে একটি প্রস্তরখন্ডের উপর মাথা রেখে তারা ঘুমিয়ে পড়লেন। এখানে হঠাৎ মাছটি নড়াচড়া করতে লাগল এবং থলে থেকে বের হয়ে সমুদ্রে চলে গেল।(মাছটি জীবিত হয়ে সমুদ্রে চলে যাওয়ার সাথে সাথে আরও একটি মু’জেযা প্রকাশ পেল যে,)মাছটি সমুদ্রের যে পথ দিয়ে চলে গেল।(মাছটি জীবিত হয়ে সমুদ্রে চলে যাওয়ার সাথে সাথে আরও একটি মু’জেযা প্রকাশ পেল যে,)মাছটি সমুদ্রের যে পথ দিয়ে চলে গেল, আল্লাহ তাআলা সে পথে পানির স্রোত বন্ধ করে দিলেন।ফলে,সেখানে পানির মধ্যে একটি সুরঙ্গের মত হয়ে গেল।ইউশা’ ইবনে নূন এই আশ্চর্যজনক ঘটনা নিরীক্ষণ করছিল।মূসা (আঃ) নিদ্রিত ছিলেন।যখন জাগ্রত হলেন,তখন ইউশা’ইবনে নুন মাছের এই আশ্চর্যজনক ঘটনা তার কাছে বলতে ভুলে গেলেন এবং সেখান থেকে সামনে রওয়ানা হয়ে গেলেন।পূর্ণ একদিন একরাত সফর করার পর সকাল বেলায় মুসা (আঃ)খাদেমকে বললেনঃআমাদের নাশতা আন।এই সফরে যথেষ্ট ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।নাশতা চাওয়ার পর ইউশা ইবনে নুনের মাছের এই আশ্চর্যজনক ঘটনা তাঁর কাছে বলতে ভুলে গেলেন এবং সেখান থেকে সামনে রওয়ানা হয়ে গেলেন।পূর্ণ একদিন একরাত সফর করার পর সকাল বেলায় মুসা (আঃ) খাদেমকে বললেনঃ আমাদের নাশতা আন।এই সফরে যথেষ্ট ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।নাশতা চাওয়ার পর ইউশা ইবনে নুনের মাছের ঘটনা মনে পড়ল।সে ভুলে যাওয়ার ওযর পেশ করে বললঃ শয়তান আদমকে ভুলিয়ে দিয়েছিল।অতঃপর বললঃমৃত মাছটি জীবিত হয়ে আশ্চর্যজনকভাবে সমুদ্রে চলে গেছে।তখন মুসা (আঃ)বললেনঃ সে স্থানটিই তো আমাদের লক্ষ্য ছিল।(অর্থাৎ,মাছের জীবিত হয়ে নিরুদ্দেশ হওয়ার স্থানটিই ছিল মন্তব্যস্থল।) সেমতে তৎক্ষণাৎ তারা ফিরে চললেন এবং স্থানটি পাওয়ার জন্যে পূর্বের পথ ধরেই চললেন। প্রস্তরখন্ডের নিকটে পৌছে দেখলেন,এক ব্যক্তি আপাদমস্তক চাদরে আবৃত হয়ে শুয়ে আছে।মূসা (আঃ) বললেনঃ আমি মুসা। হযরত খিজির প্রশ্ন করলেনঃবনী-ইসরাঈলের মুসা?তিনি জওয়াব দিলেনঃহ্যাঁ আমিই বনী ইসরাঈলের মুসা। আমি আপনার কাছ থেকে ঐ বিশেষ জ্ঞান অর্জন করতে এসেছি,যা আল্লাহ তাআলা আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন। হযরত খিযির বললেনঃআপনি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবেন না হে মুসা , আমাকে আল্লাহ তাআলা এমন জ্ঞান দান করেছেন যা আপনার কাছে নেই;পক্ষান্তরে আপনাকে এমন জ্ঞান দিয়েছেন,যা আমি জানি না।মুসা (আঃ) বললেন ঃ ইনশাআল্লাহ,আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন।আমি কোন কাজে আপনার বিরোধিতা করবো না। হযরত খিযির বললেনঃ যদি আপনি আমার সাথে থাকতেই চান,তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না ,যে পর্যন্ত না আমি নিজে তার স্বরুপ বলে দেই। একথা বলার পর উভয়ে সমুদ্রের পাড় ধরে চলতে লাগলেন।ঘটনাক্রমে একটি নৌকা এসে গেলে তারা নৌকায় আরোহনের ব্যাপারে কথাবার্তা বললেন।মাঝিরা হযরত খিযিরকে চিনে ফেলল এবং কোন রকম পারিশ্রমিক ছাড়াই তাদেরকে নৌকায় চড়েই খিযির কুড়ালের সাহায্যে নৌকার একটি তক্তা তুলে ফেললেন। এতে হযরত মুসা (আঃ) (স্থির থাকতে পারলেন না-)বললেনঃতারা কোন প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়াই আমাদেরকে নৈাকায় তুলে নিয়েছে।আপনি কি এরই প্রতিদানে তাদের নৌকা ভেঙ্গে দিলেন যাতে সবাই ডুবে যায়?এতে আপনি অতি মন্দ কাজ করলেন।খিযির বললেনঃআমি পুর্বেই বলেছিলাম, আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবেন না।তখন মুসা (আঃ) ওযর পেশ করে বললেনঃ আমি আমার ওয়াদার কথা ভুলে গিয়েছিলাম।আমার প্রতি রুষ্ট হবেন না। রসুলুল্লাহ (সাঃ) এ ঘটনা বর্ণনা করে বলেনঃহযরত মূসা(আঃ)-এর প্রথম আপওি ভুলক্রমে,দ্বীতীয় আপওি শর্ত হিসেবে এবং তৃতীয় আপওি ইচ্ছাক্রমে হয়ে ছিল (ইতিমধ্যে) একটি পাখি এসে নৌকার এক প্রান্তে বসল এবং সমুদ্র থেকে এক চঞ্চু পানি তুলে নিল ।খিযির মুসা (আঃ) কে বললেনঃ আমার জ্ঞান আপনার জ্ঞান উভয়ে মিলে আল্লাহ তাআলার জ্ঞানের মোকাবিলায় এমন তুলনাও হয় না , যেমনটি এ পাখির চঞ্চুর পানির সাথে রয়েছে সমুদ্রের পানি। অতঃপর তারা নৌকা থেকে নেমে সমুদ্রের কূল ধরে চলতে লাগলেনঃ হঠাৎ খিযির একটি বালকদের সাথে খেলা করতে দেখলেন।খিযির স্বহস্তে বালকদের সাথে খেলা করতে দেখলেন।খিযির স্বহস্তে বালকটির তার দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন।বালকটির মরে গেল।মুসা (আঃ)বললেনঃআপনি একটি নিষ্পাপ প্রাণকে বিনা অপরাধে হত্যা করেছেন।এ যে বিরাট গোনাহের কাজ করলেন।খিযির বললেনঃআমি তো পূর্বেই বলেছিলাম, আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবেন না।মুসা (আঃ) দেখলেন এ ব্যাপারটি পূর্বাপেক্ষা গুরুতর।তাই বললেনঃএরপর যদি কোন প্রশ্ন করি,তবে আপনি আমাকে পৃথক করে দেবেন। আমার ওযর- আপওি চূড়ান্ত হয়ে গেছে। অতঃপর আবার চলতে লাগলেন।এক গ্রামের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় তারা গ্রামবাসীদের কাছে খাবার চাইলেন।ওরা সোজা অস্বীকার করে দিল।হযরত খিজির এই গ্রামে একটি প্রাচিরকে পতনোম্মুখ দেখতে পেলেন।তিনি নিজ হাতে প্রাচিরটি সোজা করে দিলেন।মুসা (আঃ) বিস্মিত হয়ে বললেনঃআমরা তাদের কাছে খাবার চাইলে তারা দিতে অস্বীকার করল অথচ আপনি তাদের এত বড় কাজ করে দিলেন;ইচ্ছা করলে এর পারিশ্রামিক তাদের কাছ থেকে আদায় করতে পারতেন।খিজির বললেন অর্থাৎ এ হচ্ছে সেসব ঘটনার স্বরুপ যেগুলো দেখে আপনি ধৈর্য্য ধরতেন,তাকে আরও কিছু জানা যেত। বোখারী ও মুসলিমে বর্ণিত এই দীর্ঘ হাদীসে পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে যে,মুসা বলতে বনী-ইসরাঈলের পয়গম্বর মুসা বলতে বনী ইসরাঈলের পয়গম্বর মুসা (আঃ) এর কে প্রেরণ করা হয়েছিল,তিনি ছিলেন খিযির (আঃ)। অতঃপর আয়াতসমুহের তফসীর দেখুন। সফরের কতিপয় আদব এবং পয়গম্বরসুলভ সংকল্পের একটি নমুনাঃ এ বাক্যটি হযরত মুসা (আঃ) তার সফরসঙ্গি ইউশা ‘ইবনে নুনকে বলেছিলেন।এর উদ্দেশ্য ছিল সফরের দিক ও গন্তব্যস্থল সম্পর্কে তার সঙ্গিকে অবহিত করা ।সফরের জরুরি বিষয়াদি সম্পর্কে সঙ্গীকে অবহিত করা ।সফরের জরুরি বিষয়াদি সম্পর্কে অবহিত করাও একটি আদব।অহংকারীরা তাদের খাদেম ও পরিচালিকাদেরকে সম্বোধনেরই যোগ্য মনে করে না এবং নিজের সফর সম্পর্কে কোন কিছুই বলে না। হুকবা কারও কারও মতে আরও বেশি সময়ে এক হুকবা হয়। এর কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই।মুসা (আঃ) সঙ্গিকে বলে দিলেন যে, আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ি আমাকে দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে পৌছাতে হবে।আমার সংকল্প এই যে,যতদিনই লাগুক,গন্তব্যস্থলে না পৌছা পর্যন্ত সফর অব্যাহত রাখব।আল্লাহ তাআলার আদেশ পালনে পয়গম্বরদের সংকল্প এমনি দৃঢ় হয়ে থাকে।
খিযিরের চাইতে মুসা (আঃ) এর শ্রেষ্ঠত্ব ,তার বিশেষ প্রশিক্ষণ ও মুজেযাঃ কোরআন ও হাদীসের সুষ্পষ্ট বর্ণনা থেকে জানা যায় যে ,হযরত মুসা (আঃ) পয়গম্বরকুলের মধ্যেও বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন।আল্লাহ তাআলার সাথে কথোপকথনের বিশেষ মর্যাদা তার অনন্য বৈশিষ্ট্য।হযরত খিযিরের নবুওয়াত সম্পর্কেও মতভেদ রয়েছে। যদি নবী মেনেও নেয়া যায়,তবে তিনি রসুল ছিলেন না ।তার কোন গ্রন্থ নেই এবং বিশেষ কোন উম্মতও নেই।তাই মুসা (আঃ) হযরত খিযিরের চাইতে সর্বাবস্থায় বহুগুনে শ্রেষ্ঠ।কিন্তু আল্লাহ তায়ালা নৈকট্যশীলদের সামান্যতম এূটিও সংশোধন করেন।তাদের প্রশিক্ষণের খাতিরে সামান্যতম এূটির জন্যেও তিরষ্কার করা হয়। এবং সে মাপকাঠিতেই তাদের দ্বারা এূটি পূরণ করিয়ে নেয়া হয়।আগাগোড়া কাহিনিটি এই বিশেষ প্রশিক্ষণেরই বহিঃপ্রকাশ।আমি সর্বাধিক জ্ঞানী।মুসা (আঃ) এর মুখ থেকে অসতর্ক মুহুর্তে এ কথাটি বের হয়ে গেলে আল্লাহ তায়ালা তা অপছন্দ করেন ।তাকে হুশিয়ার করার জন্যে এমন এক বান্দার ঠিকানা তাকে দিলেন,যার কাছে আল্লাহ তায়ালা প্রদও বিশেষ জ্ঞান ছিল।সেই জ্ঞান মুসা (আঃ) এর জ্ঞান মর্তবার দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ ছিল ।,কিন্তু তিনি সেই বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন না।এদিকে আল্লাহ তায়ালা মুসা (আঃ) কে জ্ঞানার্জনের অসীম প্রেরণা দান করেছিলেন ।ফলে নতুন জ্ঞানের কথা শুনেই তিনি তা অর্জন করার জন্যে শিক্ষার্থির বেশে সফর করতে প্রস্তুত হয়ে গেলেন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছেই খিযিরের ঠিকানা জিঙ্গেস করলেন।এখানে প্রণিধান বিষয় এই যে ,আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছা করলে এখানেই খিযিরের সাথে মুসা (আঃ) এর সাক্ষাৎ অনায়াসে ঘটাতে পারতেন।ফলে সেখানে পৌছা কষ্টকর হত না।কিন্তু ঠিকানা অষ্পষ্ট রেখে বলা হয়েছে যে,যেখানে মৃত মাছ জীবিত হয়ে সমুদ্রে চলে যায়।-(কুরতুবি) মাছের বিষয়টি ভুলে না গেলে অবশ্য ব্যাপার সেখানেই শেষ হয়ে যেত। অথচ মুসা (আঃ) এর দ্বীতিয় পরিক্ষা নেয়া ছিল এর উদ্দেশ্য। তাই উভয়েই মাছের কথা ভুলে গেলেন এবং পূর্ণ একদিন ও একরা িএর পথ অতিক্রম করার পর ক্ষুধা ও ক্লান্তি অনুভব করতে পারতেন।ফলে সেখানেই মাছের কথা স্মরণ হয়ে যেত এবং দূরবর্তি সফরের প্রয়োজন হত নাঃ কিন্তু মুসা (আঃ) আরও একটু কষ্ট করুক সম্ভবতঃএটাই ছিল আল্লাহ তায়ালার অভিপ্রায়।তাই দির্ঘ পথ অতিক্রম করার পর ক্ষুধা ও ক্লান্তি অনুভুত হয় এবং মাছের কথা মনে পড়ে। অতঃপর সেখান থেকেই তারা পথচিন্হ অনুসরণ করে ফিরে চলেন। মাছের সমুদ্রে চলে যাওয়ার কথাটি প্রথমবার সাওয়াবা শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে।এর অর্থ সুরঙ্গ।পাহাড়ে রাস্তা তৈরী করার জন্যে অথবা শহরে ভূগর্ভস্থ পথ তৈরী করার পথ তৈরী করার উদ্দেশ্যে সুড়ঙ্গ খনন করা হয়। এ থেকে জানা গেল যে,মাছটি সমুদ্রে যেদিকে যেত,সেদিকে একটি সুড়ঙ্গের মত পথ তৈরী হয়ে যেত।বোখারীরর হাদীস থেকে তাই জানা যায়।দ্বিতীয়বার যখন ইউশা’ ইবনে নুন দীর্ঘ সফরের পর এ ঘটনাটি উল্লেখ করেন।কেননা পানিতে সুড়ঙ্গ তৈরী হওয়া স্বয়ং একটি অভ্যাসবিরুদ্ধ আশ্চর্য ঘটনা। হযরত খিযিরের সাথে সাক্ষাত এবং তার নবুওয়াতের প্রশ্নঃকোরআন পাকে ঘটনার মূল ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি;বোখারির হাদীসে তার নাম খিযির উল্লেখ করা হয়েছে।খিযির অর্থ সবুজ-শ্যামল।সাধারণ তফসীরবিদগণ তার এই নামকরণের কারণ প্রসঙ্গে বলেন যে,তিনি যেখানে বসতেন,সেখানেই ঘাস উৎপন্ন হয়ে যেত,মাটি যেরুপই হোক না কেন।কোরআন পাক একথাও বর্ণনা করে যে,খিযির পয়গম্বর ছিলেন না,একজন ওলি ছিলেন।কিন্তু সাধারণ আলেমদের মতে তিনি যে নবী ছিলেন।একথা কোরআনে বর্ণিত ঘটনাবলি দ্বারা প্রমাণিত হয়।কেননা,এই সফরে যে কয়েকটি ঘটনা,তম্মধ্যে কয়েকটি নিশ্চিতরুপেই প্রচলিত শরীয়ত বিরোধী।আল্লাহর ওহী ব্যতীত শরীয়তের নির্দেশের কোনরুপ ব্যতিক্রম হতে পারে না।নবী ও পয়গম্বর ছাড়া আল্লাহর ওহী কেউ পেতে পারে না ।ওলী ব্যক্তিও কাশফ ও এলহামের মাধ্যমে কোন কোন বিষয় জানতে পারেন,কিন্তু তা এমন প্রমাণ নয়, যার ভিওিতে শরীয়তের কোন নির্দেশ পরিবর্তন করা যায়।অতএব প্রমাণিত হয় যে খিযির আল্লাহর নবী ছিলেন।তাকে ওহীর মাধ্যমে কিছুসংখ্যক প্রচলিত শরীয়ত বিরোধী বিশেষ বিধান দান করা হয়েছিল।তিনি যা কিছু করেছেন,তা এই ব্যতিক্রমী বিধানের অনুসরনেই করেছেন।কোরআনের নিম্মোক্ত বাক্য তার পক্ষ থেকেও এ বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছেঃ আমি নিজের পক্ষ থেকে কোন কিছু করিনি,বরং আল্লাহর নির্দেশেই করেছি। মোটকথা ,সাধারণ আলেমদের মতে হযরত খিযির (আঃ) ও একজন নবী।তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে কিছু অপার্থীব দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছিল এবং এ সম্পর্কিত জ্ঞানও দান করা হয়েছিল।মুসা (আঃ) এগুলো জানতেন না।তাই তিনি আপওি উত্থাপন করেছিলেন।তফসীরে কুরতুবী,বাহরে-মুহীত,আবু হাইয়্যান প্রভৃতি গ্রন্থে এই বিষয়বস্ত বিভিন্ন ভঙ্গিতে বর্ণিত হয়েছে। কোন ওলীর পক্ষে শরীয়তের বাহ্যিক নির্দেশ অমাণ্য করা জায়েয নয়ঃঅনেক মুর্খ,পথভ্রষ্ট,সুফিবাদের কলঙ্ক লোক একথা বলে বেড়াই যে,শরীয়ত ভিন্ন জিনিস আর তরীকত ভিন্ন জিনিস আর তরীকত ভিন্ন জিনিস ।অনেক বিষয় শরীয়তে হারাম,কিন্তু তরীকতে হালাল।কাজেই কোন ওলীকে প্রকাশ্য কবীরা গোনাহে লিপ্ত দেখেও আপওি করা ঠিক নয়।উপরোক্ত আলোচনা থেকেই জানা গেল যে,তাদের এসব কথা পরিষ্কার ধর্মদ্রোহিতা ও বাতিল ।হযরত খিযির (আঃ)-কে দুনিয়ার কোন ওলীর মাপকাঠিতে বিচার করা যায় না এবং তার কোন শরীয়তের বিরুদ্ধ কাজকে বৈধ বলা যায় না । এখানে হযরত মুসা (আঃ) আল্লাহর নবী ও শীর্ষস্থানীয় রসুল হওয়া সত্বেও হযরত খিযিরের কাছে সবিনয় প্রার্থনা করেছেন যে, আমি আপনার জ্ঞান শিক্ষা করার জন্য আপনার সাহচর্য কামনা করি । এ থেকে বোঝা গেল যে,সাগরেদ গুণে ওস্তাদ অপেক্ষা অনেক বড় হলেও উস্তাদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং তার অনুসরণ করা ওয়াজিব। এটাই জ্ঞানার্জনের আদব।- (কুরতুবী,মাযহারী)
শরীয়ত বিরুদ্ধ কাজে নির্বীকার থাকা আলেমের পক্ষে জায়েজ নয়ঃ হযরত খিযির (আঃ) মুসা (আঃ)-কে বললেন,আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবেন না । আসল তথ্য যখন আপনার জানা নেই, তখন ধৈর্য ধরবেনই বা কেমন করে ?উদ্দেশ্য এই যে,আমি যে জ্ঞানলাভ করেছি,তা আপনার জ্ঞান থেকে ভিন্ন ধরনের।তাই আমার কাজকর্ম আপনার কাছে আপওিকর ঠেকাবে। আসল তথ্য আপনাকে না বলা পর্যন্ত আপনি নিজ কর্তব্যের খাতিরে আপওি করবেন। মুসা (আঃ) স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে গমনের এবং তার কাছ থেকে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ পেয়েছিলেন।তাই তার কোন কাজ প্রকৃতপক্ষে শরীয়ত বিরোধী হবে না,এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত ছিলেন।তাই তিনি ধৈর্য্যধারনের ওয়াদা করে নিলেন।নতুবা এরুপ ওয়াদা করাও কোন আলেমের জন্যে জায়েয নয়।কিন্তু পরে শরীয়ত সম্পর্কে ধর্মীয় মর্যাদাবোধের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে কৃত ওয়াদা ভুলে গেলেন। প্রথম ঘটনাটি তেমন গুরুতরও ছিল না। শুধু নৌকাওয়ালাদের আর্থিক ক্ষতি অথবা পানিতে ডুবে যাওয়ার নিছক সম্ভাবনাই ছিল, যা পরে বাস্তবে পরিণত হয়নি।কিন্তু পরবর্তি ঘটনাবলিতে মুসা (আঃ)আপওি না করার ওয়াদাও করেননি।বালক হত্যার ঘটনা দেখে তিনি তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং এ প্রতিবাদের জন্যে কোন ওযরও পেশ করেননি।শুধু এতটুকু বললেন যে,ভবিষ্যতে প্রতিবাদ করলে যে আমাকে সাহচর্য দান না করার অধিকার আপনার থাকবে।কেননা শরীয়তবিরুদ্ধ কাজ বরদাশত করা কোন নবী ও রসুলের পক্ষে সম্ভবপর নয়।তবে প্রকৃতপক্ষেও যেহেতু তিনি পয়গম্বর ছিলেন,তাই এই রহস্য উদঘাটিত হয় যে, এসব ঘটনা খিযির (আঃ) এর জন্যে শরীয়তের সাধারণ নিয়ম বহির্ভুত করে দেয়া হয়েছিল এবং তিনি ওহীর প্রত্যাদেশ অনুযায়ীই এগুলো সম্পাদন করেছিলেন।-(মাযহারী) এখানে স্বভাবতই প্রশ্ন হয় যে,খিযির (আঃ)-এর বর্ণনা অনুযায়ী তার জ্ঞান মুসা (আঃ) এর জ্ঞান থেকে ভিন্ন ধরনের ছিল। কিন্ত উভয় জ্ঞানই যখন আল্লাহ প্রদও ,তখন উভয়ের বিধি – বিধানে বৈপরীত্য ও বিরোধ কেন? এ সম্পর্কে তফসীর মাযহারীতে হযরত কাযী সানাউল্লাহ পানিপথীর বক্তব্য সত্যের অধিক নিকটবর্তি এবং আকর্ষণীয়।আমি তার বক্তব্যের যে মর্ম বুঝতে পেরেছি,তার সার-সংক্ষেপ নিম্নে উদ্ধৃত করা হলঃবোখারী ও মুসলিমের হাদীসে আছে,খিযির (আঃ)কুড়াল দ্বারা নৌকার একটি তক্তা বের করে দেন। ফলে নৌকায় পানি ঢুকে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ কারনেই মুসা (আঃ) প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেন।কিন্ত ঐতিহাসিক রেওয়ায়েতে বর্ণিত আছে যে,পানি নৌকায় প্রবেশ করেনি-মুজেযার কারনে হোক। বগভীর রেওয়াতে আছে যে, এই তক্তার জায়গায় খিযির (আঃ) একটি কাঁচ লাগিয়ে দেন।কোরআনের পূর্বাপর বর্ণনা থেকে জানা যায় যে,নৌকা ডুবে কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। এর দ্বারা উপরোক্ত রেওয়াতগুলো সমর্থিত হয়। আরবি ভাষায় গোলাম শব্দের অর্থ নাবালেগ বালক।যে বালককে খিযির (আঃ) হত্যা করেন,তার সম্পর্কে অধিকাংশ তফসীরবিদ বলেন যে,সে নাবালেগ ছিল।তার সম্পর্কে অধিকাংশ তফসীরবীদ বলেন যে,সে নাবালেগ ছিল। পরবর্তি বাক্যে তার নাবালকত্বের সমর্থন পাওয়া যায়। কেননা ঝুকবা শব্দের অর্থ গোনাহ থেকে পবিএ।এই গুণটি হয় পয়গম্বরদের মধ্যে পাওয়া যায়,না হয় নাবালেগ বাচ্চাদের মধ্যে পাওয়া যায় । নাবালগদের আমলনামায় কোন গোনাহ লিপিবদ্ধ করা হয় না।
|
|