সূরা লোকমান মক্কায় অবতীর্ণ এ আয়াতে যাকাতের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।এ থেকে জানা যায় যে ,মূল যাকাতের আদেশ হিজরতের পূর্বে মক্কায়ই অবতীর্ণ হয়ে গিয়েছিল।তবে যাকাতের নিসাব নির্ধারণ, পরিমাণের বিবরণ এবং ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা আদায় করা ও যথার্থ খাতে ব্যয় করার ব্যবস্থাপনা হিজরি দ্বিতীয় সনে সম্পন্ন হয়েছে। আলোচ্য আয়াতটি একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে। মক্কার মুশরিক ব্যবসায়ী নযর ইবনে হারেস বাণিজ্য ব্যাপদেশে বিভিন্ন দেশ সফর করত।সে একবার পারস্য দেশ থেকে প্রমুখ আজমী সম্রাটগণের ঐতিহাসিক কাহিনীর বই ক্রয় করে আনল এবং মক্কার মুশরিকদেরকে বলল,মুহাম্মদ তোমাদেরকে আদ,সামুদ,প্রভৃতি সম্প্রদায়ের কিসসা কাহিনি শোনায়। মক্কার মুশরিকরা অত্যন্ত আগ্রহ ভরে তার আনীত কাহিনী শুনতে থাকে ।কারন এগুলোতে শিক্ষা বলতে কিছু ছিল না যা পালন করার শ্রম স্বীকার করতে হয়; বরং এগুলো ছিল চটকদার গল্পগুচ্ছ।এর ফলে অনেক মুশরিক ,যারা এর আগে কুরআনের অলৌকিকতা ও অদ্বীতিয়তার কারণে একে শোনার আগ্রহ পোষণ করত এবং গোপনে গোপনে শুনতো,তারাও কোরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবার ছুতা পেয়ে গেল।(রুহুল-মা’আনি)
দুররে মনসুরে ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে ,উল্লেখিত ব্যবসায়ী বিদেশ থেকে একটি গায়িকা বাদী ক্রয় করে এনে তাকে কোরআন শ্রবণ থেকে মানুষকে ফেরানোর কাজে নিয়োজিত করলো । কেউ কোরআন শ্রবণের ইচ্ছা করলে তাকে গান শোনাবার জন্য সে বাদিকে আদেশ করতো ও বলতো ,মোহাম্মদ তোমাদেরকে কোরআন শুনিয়ে নামায পড়া, রোযা রাখা এবং ধর্মের জন্যে প্রাণ বিসর্জন দেয়ার কথা বলে ।এতে কষ্টই কষ্ট।এস এ গানটি শুন এবং উল্লাস কর। আলোচ্য আয়াতটি এ ঘটনার পরিপেক্ষিতেই অবতীর্ণ হয়েছেে ;এতে ক্রয় করার অর্থ আজমী সম্রাটগণের কিসসা -কাহিনী অথবা গায়িকা বাদি ক্রয় করা ।শানে নুযুলের প্রতি লক্ষ্য করলে আরবি অর্থ আসতারা অর্থাৎ ক্রয় করা । অর্থাৎ এক কাজের পরিবর্তে অন্য কাজ অবলম্বন করা । ক্রীড়া-কৌতুকের উপকরণ ক্রয় করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
কিসসা কাহিনি এবং লাহু শব্দের অর্থ গাফেল হওয়া। যেসব বিষয় মানুষকে প্রয়োজনীয় কাজ থেকে গাফেল করে দেয় সেগুলোকে লাহু বলা হয় ,যার কোন উল্লেখযোগ্য উপকারিতা নেই ,কেবল সময় ক্ষেপণ অথবা মনোরন্জনের জন্যে করা হয় । আলোচ্য আয়াতে তাফসীর কি এ সম্পর্কে তফসীরবিদগণের উক্তি বিভিন্নরুপ ।হযরত ইবনে মাসউদ ,ইবনে আব্বাস ও জাবের (রাঃ)-এর এক রেওয়ায়েতে তফসীর করা হয়েছে গান- বাদ্য করা।-(হাকেম বায়হাকী) অধিকাংশ সাহাবী ,তাবেয়ী ও তফসীরবিদগণের মতে গান,বাদ্যযন্েএ ও অনর্থক কিসসা-কাহিনীসহ যেসব বস্তু মানুষকে আল্লাহর এবাদত ও স্মরণ থেকে গাফেল করে ,সেগুলো সবই লাহুল হাদিস -(বোখারি ও বায়হাকী)
বায়হাকিতে আছে -ক্রয় করার অর্থ গায়ক পুরুষ অথবা গায়িকা নারী ক্রয় করা কিংবা তদনুরুপ এমন অনর্থক বস্তু ক্রয় করা যা মানুষকে আল্লাহর স্মরন থেকে গাফেল করে দেয়। ইবনে জরীরও এই ব্যপক অর্থ অবলম্বন করেছেন ।-তিরমিযির এক রেওয়ায়েত থেকেও এরুপ ব্যাপক অর্থ প্রমাণিত হয় । এতে রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,গায়িকা বাদীদের ব্যবসা করো না ।অতঃপর তিনি বলেন ,এ ধরনের ব্যবসা সম্পর্কেই আয়াত নাযিল হয়েছে ।
ক্রীড়া-কৌতুক ও তার সাজ -সরন্জামাদি সম্পর্কে শরীয়তের বিধান ঃ প্রথম লক্ষণীয় বিষয় এই যে,কোরআন পাক কেবল নিন্দার স্থলেই ক্রিড়াও খেলাধুলার উল্লেখ করেছে ।এই নিন্দার সর্বনিম্ন পর্যন্ত হচ্ছে মকরুহ হওয়া। -(রুহুল মাআনি ) আলোচ্য আয়াতটি ক্রিড়া -কৌতুকের নিন্দায় সুষ্পষ্ট ও প্রকাশ্য। মুস্তাদরাক হাকেমে বর্ণিত হযরত আবু হোরায়রা রেওয়ায়েতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, পার্থিব সকল খেলাধৃুলা বাতিল ;(১)তীর -ধনুক নিয়ে খেলা,(২) অশ্বকে প্রশিক্ষণ দানের খেলা এবং (৩)নিজের বউ সাথে হাস্যরসের খেলা । এ তিন প্রকার খেলা বৈধ। এ হাদিসে প্রত্যেক খেলাকে বাতিল সাব্যস্ত করে যে তিনটি বিষয়ের ব্যতিক্রম বর্ণনা করা হয়েছে,সেগুলো প্রকৃতপক্ষে খেলার অর্ন্তভুক্তই নয়।কেননা খেলা ্এমন কাজকে বলা হয় ,যাতে কোন উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় ও পার্থীব উপকারীতা নেই।বস্তুতঃউপরোক্ত তিনটি বিষয়েই উপকারী। এগুলোর সাথে অনেক ধর্মীয় ও পার্থীব উপকারীতা নেই । বস্তুতঃউপরোক্ত তিনটি বিষয়েই উপকারী ।এগুলোর সাথে অনেক ধর্মীয় ও পার্থিব উপকারীতা সম্পৃক্ত রয়েছে এবং কতককে উওম কাজ সাব্যস্ত করা হয়েছে । সারকথা এই যে ,যেসব কাজ প্রকৃতপক্ষে খেলা ; অর্থাৎ যাতে কোন ধর্মীয় ও পার্থীব উপকারিতা নেই ,সেগুলো অবশ্যই নিন্দনীয় ও মাকরুহ।তবে কতক একেবারে কুফর পর্যন্ত পৌছে যায় ,কতক প্রকাশ্যে হারাম এবং কতক কমপক্ষে মাকরুহ তানযীহি অর্থাৎ অনুওম। যেসব কাজ প্রকৃতই খেলা ,তার কোনটাই এ বিধানের বাইরে নয়। হাদীসে যেসব খেলাকে ব্যতিক্রমভুক্ত প্রকাশ করা হয়েছে ,সেগুলো আসলে খেলার অর্ন্তভুক্ত নয়। (১)যে খেলা দ্বীন থেকে পথভ্রষ্ট হওয়ার অথবা অপরকে পথভ্রষ্ট করার উপায় হয়,তা কুফর ) লাওহে মাহফুজ আয়াতে এর কুফর ও পথভ্রষ্টতা হওয়া বর্ণিত হয়েছে এবং এর শাস্তি অবমাননাকর আযাব উল্লেখ করা হয়েছে ,যা কাফেরদের শাস্তি। কারণ আয়াতটি যর ইবনে হারেসের ঘটনার পরিপেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছে । সে এই খেলাকে ইসলামের বিরুদ্ধে মানুষকে পথভ্রষ্ট করার কাজে ব্যবহার করেছিল। তাই এ খেলা হারাম তো বটেই,কুফর পর্যন্ত পৌছে গেছে । (২)যে খেলা মানুষকে ইসলামি বিশ্বাস থেকে সরিয়ে নেয় না ; কিন্তু কোন হারাম কাজে ও গোনাহে লিপ্ত করে দেয় , এরুপ খেলা কুফর নয়; কিন্তু হারাম ও কঠোর গোনাহ । যেমন জুয়ার ভিওিতে হারজিতে সকল প্রকার খেলা অথবা যে খেলা নামায,রোযা ইত্যাদি ফরয কর্মে অন্তরায় হয়। অশ্লীল কবিতা,উপন্যাস এবং বাতিলপন্থিদের পুস্তক পাঠ করাও না-জায়েজঃ
বর্তমান যুগে অধিকাংশ যুবক -যুবতি অশ্লিল উপন্যাস পেশাদার অপরাধিদের কাহীনি অথবা অশ্লীল কবিতা পাঠে অভ্যাস্ত।এসব বিষয় উপরোক্ত হারাম খেলারই অর্ন্তভুক্ত। অনুরুপভাবে পথভ্রষ্ট বাতিলপন্থিদের চিন্তাধারা অধ্যয়ন করাও সর্বসাধারনের জন্য পথভ্রষ্টতার কারণ বিধায় না-জায়েজ। তবে গভীর নলেজের অধিকারি আলেমগণ জওয়াব দানের উদ্দেশ্য এগুলো পাঠ করলে তাতে আপওিকর কারণ নেই । (৩)যেসব খেলায় কুফর নেই এবং কোন প্রকার গোনাহ ,নেই,সেগুলো মাকরুহ। কারণ এতে অনর্থক কাজে শক্তি ও সময় বিনষ্ট করা হয় । খেলার সাজ সরন্জাম ক্রয় -বিক্রয়ের বিধানঃ উপরোক্ত বিবরণ থেকে খেলার সাজ-সরন্জাম ক্রয় -বিক্রয়ের বিধানও জানা গেছে যে ,যেসব সাজ-সরন্জাম কুফর অথবা হারাম খেলায় ব্যবহ্রত হয়,সেগুলোর ব্যবসা করাও মাকরুহ । পক্ষান্তরে যেসব সাজ -সরন্জাম বৈধ ও ব্যতিক্রমভুক্ত খেলায় ব্যবহার করা হয় ,সেগুলোর ব্যবসাও অবৈধ। অনুমোদিত ও বৈধ খেলাঃ পূর্বে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে যে ,যে খেলায় কোন ধর্মীয় ও পার্থিব উপকারিতা নেই ,সেসব খেলাই নিন্দনীয় ও নিষিদ্ধ। যে খেলা শারীরিক ব্যায়াম তথা স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যে অথবা কমপক্ষে মানসিক অবসাদ দুর করার জন্যে খেলা হয়,সে খেলা শরীয়ত অনুমোদন করে ,যদি তাতে বাড়াবাড়ি না করা হয় এবং এতে ব্যস্ত থাকার কারনে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম বিঘ্নিত না হয় । আর ধর্মীয় প্রয়োজনের নিয়তে খেলা হলে তাতে সওয়াবও আছে । উপরে বর্ণিত হাদীসে তিনটি খেলাকে নিষেধাঙ্গার বাইরে রাখা হয়েছে -তীর নিক্ষেপ ,অশ্বারোহণ এবং বউয়ের সাথে হাস্যরস করা । হযরত ইবনে আব্বাসের বর্ণনা মতে এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন ,মুমিনের শ্রেষ্ঠ খেলা সাতার কাটা এবং নারীর শ্রেষ্ঠ খেলা সুতা কাটা। সহীহ মুসলিমও মুসনাদে আহমদ হযরত সালাম ইবনে আকওয়া বর্ণনা করেন ,জনৈক আনসারী দৌড়ে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। প্রতিযোগিতায় কেউ তাকে হারাতে পারত না । তিনি একদিন ঘোষণা করলেন কেউ আমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে প্রস্তুত আছে কি ? আমি রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দিলেন । অতঃপর প্রতিযোগিতায় আমি জয়ী হয়ে গেলাম । এ থেকে জানা গেল যে ,দৌড় প্রতিযোগিতা বৈধ । খ্যাতনামা কুস্তিগী রোকানা একবার রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে কুস্তিতে অবতীর্ণ হলে তিনি তাকে ধরাশায়ী করে দেন।-(আবু দাউদ)আবিসিনিয়ার কতিপয় যুবক মদীনা তাইয়্যেবায় সামরিক কলা -কৌশল অনুশীলনকম্পে বর্শা ইত্যাদি নিয়ে খেলায় প্রবৃও ছিল ।রাসুল (সাঃ) হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে নিজের পেছনে দাঁড় করিয়ে তাদের খেলা উপভোগ করাচ্ছিলেন।তিনি তাদেরকে বলেছিলেন খেলাধুলা অব্যাহত রাখ।কতক রেওয়ায়েতে আরও আছে তোমারে ধর্মে শুষ্কতা ও কঠোরতা পরিলক্ষিত হোক- এটা আমি পছন্দ করি না।
অনুরুপভাবে কোন কোন সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে,যখন তারা কোরআন ও হাদিস সম্পর্কিত কাজে ব্যস্ততার ফলে অবসন্ন হয়ে পড়তেন ,তখন অবসাদ দূর করার জন্যে মাঝে মাঝে আরবে প্রচলিত কবিতা ও ঐতিহাসিক কবিতা ও ্ঐতিহাসিক ঘটনাবলি দ্বারা মনোরন্জন করতেন। এক হাদিসে এরশাদ হয়েছে ‘‘তোমরা মাঝে মাঝে অন্তরকে বিশ্রাম ও আরাম দেবে।-(আবু দাউদ) এ থেকে অন্তর ও মস্তিস্কের বিনোদন এবং এর জন্যে কিছু সময় বের করার বৈধতা প্রমাণিত হয় ।
কতক খেলা যেগুলো পরিষ্কার নিষিদ্ধঃ এমনও কতক খেলা রয়েছে যেগুলো রসুলুল্লাহ (সাঃ) বিশেষভাবে নিষিদ্ধ করেছেন ,যদিও সেগুলোতে কিছু কিছু উপকারিতা আছে বলেও উল্লেখ করা হয় ,যেমন দাবা ,চওসর ইত্যাদি । এগুলোর সাথে হারজিত ও টাকাপয়সার লেনদেন জড়িত থাকলে এগুলো জুয়া ও অকাট্য হারাম । অন্যথায় কেবল চিওবিনোদনের উদ্দেশ্যে খেলা হলেও হাদিসে এসব খেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।সহীহ মুসলিমে বর্ণি ত হযরত বুরাইদা (রাঃ) এর রেওয়াতে রাসুল (সাঃ) বলেন যে ব্যক্তি চওসর খেলায় প্রবৃও হয় ,সে যেন তার হাতকে শুকরের রক্তে রন্জিত করে । অনুরুপভাবে এক হাদিসে দাবা খেলোয়াড়ের প্রতি অভিশাপ বর্ণিত হয়েছে ।- (নাউজুবিল্লাহ)
এমনিভাবে কবুতর নিয়ে খেলা করাকে রসুলুল্লাহ (সাঃ) অবৈধ সাব্যস্ত করেছেন। (আবু দাউদ,কানয) এই নিষেধাঙ্গার বাহ্যিক কারন এই যে,সাধারণভাবে এসব খেলায় মগ্ন হলে মানুষ জরুরি কাজকর্ম এমন কি নামায ,রোযা,ও অন্যান্য ইবাদাত থেকেও অসাবধান হয়ে যায়।অন্য সাহাবিগণ ব্যাপক তাফসীর করে বলেছেন যে ,আয়াতে এমন যে কোন খেলা বোঝানো হয়েছে,যা মানুষকে আল্লাহ থেকে গাফেল করে দেয়। আবু মালেক অাশ আরীর রেওয়ায়েতে রাসুল (সাঃ) বলেন ঃ ‘‘আমার উম্মতের কিছূ লোক মদের নাম পাল্টিয়ে তা পান করবে ।তাদের সামনে গায়িকারা বিভিন্ন বাদ্যযন্ এ সহকারে গান করবে ।আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ভূ-গর্ভে বিলিন করে দেবেন এবং কতকের আকৃতি বিকৃত করে বানর ও শুকরে পরিণত করে দিবেন ।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর রেওয়াতে রাসুল (সাঃ) বলেন আল্লাহ তায়ালা মদ,জুয়া ,তবলা ও সারেঙ্গি হারাম করেছেন।তিনি আরও বলেন নেশাগ্রস্ত করে এমন প্রত্যেক বস্তু হারাম ।(আহমদ,আবু দাউদ) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে রাসুল (সাঃ) বলেন ,যখন জেহাদলব্দ সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করা হবে ,যখন গচ্ছিত বস্তকে লুটের মাল হিসেবে গণ্য করা হবে ,যাকাতকে জরিমানার মতো কঠিন মনে করা হবে,যখন পার্থিব সম্পদ অর্জন করার জন্যে শিক্ষা গ্রহন করা হবে,যখন মানুষ বউয়ের আনুগ্ত্য ও মায়ের অবাধ্যতা করা শুরু করবে ।যখন বন্ধুকে নিকটে টেনে নিবে এবং পিতাকে দূরে সরিয়ে রাখবে,যখন মসজিদসমুহে হট্টগোল হবে,যখন পাপাচারী কুকর্মি ব্যক্তি গো েএর নেতা হবে । যখন নীচতম ব্যাক্তি তার গো েএ র প্রধান হবে ।যখন দুষ্ট লোকদের সম্মান করা হবে তাদের অনিষ্টের ভয়ে ,যখন গায়িকা ও বাদ্যযনে্ েএর রহুত প্রচলন হবে,যখন মদ্যপান শুরু হবে ,যখন মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের পূর্ববতীগণকে অভিসম্পাত করবে ,তখন তোমরা প্রতিক্ষা করো একটি লালবর্ণ যুক্ত বায়ুর,ভুমিকম্পের ,ভূমিধ্বসের আকার আকৃতি বিকৃত হয়ে যাওয়ার এবং কিয়ামতের এমন নিদর্শনসমুহের যেগুলো একের পর এক প্রকাশ হতে থাকবে,যেমন কোন মালার সুতা ছিড়ে গেলে দানাগুলো একের পর এক খসে পড়তে থাকে।এতদ্ভিন্ন বহু প্রমাণ ও নির্ভরযোগ্য হাদীস রয়েছে।যাতে গান বাজনা হারাম ও নাজায়েজ বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিশেষ সতর্কবাণি রয়েছে এবং কঠিন শাস্তির ঘোষণা রয়েছে। হয় জায়েজ। কোন কোন সুফি সাধক গান শুনেছেন বলে যে কথা প্রচলিত আছে তা এ ধরনের বৈধ গানেরই অন্তভূক্ত।কেননা,তাদের শরীয়তের অনুসরণ ও রাসুল (সাঃ) এর অনুগমন দিবালোকের ন্যায় সুনিশ্চিত ও সুষ্পষ্ট। তাদের সম্পর্কে এরুপ পাপে জড়িয়ে পড়ার ধারণাও করা যেতে পারে না । অনুসন্ধানী সুফীগণ নিজেরাই ব্যাপারটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন । এই আয়াতে মহান আল্লাহ পাক এই বিস্তির্ণ ও প্রশস্ত আকাশকে কোন স্তম্ভবিহিনভাবে সুবিশাল ছাদরুপে সৃষ্টি করাকে তার অনন্যা ক্ষমতা ও সৃষ্টি-কৌশলের উজ্জল নিদর্শন বলে বর্ণনা করেছেন।
1 thought on “সুরা লোকমান”