সূরা আল হাদিদ

তাফসীরের সার-সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে।এবং এর উদ্দেশ্য মোজেযা এবং রেসালতের সুষ্পষ্ট প্রমাণাদিও হতে পারে ।-(ইবনে কাসীর) পরবর্তি বাক্যে কিতাব নাযিলের আলাদা উল্লেখ বাহ্যতঃশেষোক্ত তফসীরের সমর্থক।অর্থাৎ মোজেজা ও প্রমাণাদি বোঝানো হয়েছে এবং বিধানাবলীর জন্যে কিতাব নাযিল করার কথা বলা হয়েছে।                                                                        কিতাবের সাথে ‘মিযান’ নাযিল করারও উল্লেখ আছে। মীযানের আসল  অর্থ পরিমাপযন্‌এ। প্রচলিত দাঁড়িপাল্লা ছাড়া বিভিন্ন বস্তু ওজন করার জন্যে নবাবিষ্কৃত বিভিন্ন হাতিয়ারপাতিও ‘মিযান’ এর অর্থে শামিল আছে; যেমন আজকাল  আলো,উওাপ ইত্যাদির পরিমাপকাঠি প্রচলিত আছে।                                                      আয়াতে কিতাবের ন্যায় মীযানের বেলায়ও নাযিল করার কথা বলা হয়েছে।কিতাব নাযিল হওয়া এবং ফেরেশতার মাধ্যমে  পয়গম্বরগণ পর্যন্ত পৌছা সুবিদিত।কিন্তু মীযান নাযিল করার অর্থ কি এ সম্পর্কে তফসীরে মা’আনী,মাযহারী ইত্যাদিতে বলা হয়েছে যে,মীযান নাযিল করার মানে দাড়িপাল্লার ব্যবহার ও ন্যায়বিচার  সম্পর্কিত বিধানাবলি নাযিল করা ।কুরতুবি বলেনঃপ্রকৃতপক্ষে কিতাবই নাযিল করা হয়েছে, কিন্তু এর সাথে দাড়িপাল্লা স্থাপন ও আবিষ্কারকে সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে। আরবদের বাকপদ্ধতিতে এর নজির বিদ্যমান  আছে।                                                         এক আয়াতে  আল্লাহ তায়াল বলেন,অর্থাৎ যেন এরুপ  আমি কিতাব নাযিল করেছি ও দাঁড়িপাল্লা উদ্ভাবন করেছি।সূরা আর রহমানের আয়াত থেকেও এর সমর্থন পাওয়া যায়। কোন কোন রেওয়ায়েতে আছে যে,নূহ (আঃ) এর  প্রতি আক্ষরিক অর্থে আকাশ থেকে দাঁড়িপাল্লা নাযিল করা হয়েছিল এবং আদেশ করা হয়েছিল যে এর সাহায্যেও ওজন করে দায়-দেনা পূর্ণ করতে হবে। কিতাব ও মীযানের পর লৌহ নাযিল করার কথা বলা হয়েছে। এখানেও নাযিল করার মানে সৃষ্টি করা ।কোরআন পাকের এক আয়াতে চতুষ্পদ জন্তুদের বেলায়ও নাযিল করা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।অথচ চতুষ্পদ জন্তু আসমান থেকে নাযিল হয় না-পৃথিবিতে জন্মলাভ করে ।সেখানেও সৃষ্টি করার অর্থ বোঝানো হয়েছে।তবে সৃষ্টি করাকে নাযিল করা শব্দে ব্যক্ত করার মধ্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে,সৃষ্টির বহুপূর্বেই লওহে -মাহফুযে লিখিত ছিল-এ দিক দিয়ে দুনিয়ার সবকিছুই আসমান থেকে অবতীর্ণ।-(রুহুল-মাআনী)                                                                    আয়াতে লৌহ নাযিল করার দু’টি রহস্য উল্লেখ করা হয়েছে।(এক) এর  ফলে  শএুদের মনে ভীতি সঞ্চার হয় এবং এর সাহায্যে অবাধ্যদেরকে খোদায়ী বিধান ও ন্যায়নীতি পালনে বাধ্য করা যায়। (দুই)এতে আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্যে বহবিধ কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।দুনিয়াতে যত শিল্প-কারখানা ও কলকব্জা আবিষ্কৃত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে হবে,সবগুলোর মধ্যে লৌহের ভূমিকা সর্বাধিক।লৌহ ব্যতিত কোন শিল্প চলতে পারে না।                          এখানে আরও একটি  প্রণিধানযোগ্য বিষয় এই যে,আলোচ্য আয়াতে  পয়গম্বর  ও কিতাব প্রেরণ এবং ন্যায়নীতির দাড়িপাল্লা আবিষ্কার ও  ব্যবহারের  আসল লক্ষ্য বর্ণনা  প্রসঙ্গে বলা হয়েছেঃ অর্থাৎ মানুষ যাতে ইনসাফের উপর  প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। এরপর লৌহ সৃষ্টি করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর লক্ষ্যও প্রকৃতপক্ষে ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা ।কেননা পয়গম্বরগণও  আসমানী কিতাবসমুহের ন্যায় ও সুবিচার  প্রতিষ্ঠা করার সুষ্পষ্ট  প্রমাণাদি দেন এবং যারা সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে না,তাদেরকে পরকালের শাস্তির ভয় দেখান।মীযান ইনসাফের সীমা ব্যক্ত করে ।কিন্তু যারা অবাধ্য ও হঠকারী,তারা কোন প্রমাণ মানে না এবং ন্যায়নীতি অনুযায়ী কাজ করতে সম্মত হয় না।তাদেরকে স্বাধীন ছেড়ে দেয়া হলে দুনিয়াতে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করা সূদুরপরাহত।তাদেরকে বশে আনা লৌহ ও তরবারির কাজ,যা শাসকবর্গ অবশেষে বেগতিক হয়ে ব্যবহার করে ।

এখানে আরও লক্ষণীয় বিষয় এই যে ,কুরআন পাক  ইনসাফ ও সুবিচার দেনা-পাওনা পরিশোধ ও তাতে হ্রাসবৃদ্ধির নিষেধাঙ্গা জানা যায় এবং মীযান দ্বারা  অপরের দেনাপাওনায় অংশ নির্ধারিত হয়। এই বস্তুদ্বয় সৃষ্টির লক্ষ্যয় হলো সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা ।এরপর শেষের দিকে  লৌহের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে,ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকল্পে লৌহের ব্যবহার  বেগতিক অবস্থায় হয়ে থাকে।চিন্তাধারার লালন ও শিক্ষা দীক্ষায়  আসল বিষয়। মহান আল্লাহ পাক বলেন আমি  েলৗহ সৃষ্টি করেছি, যাতে শএুদের মনে ভীতি সঞ্চার হয়,মানুষ এর দ্বারা শিল্পকাজে উপকৃত হয় এবং আইনগতভাবে  ও বাহ্যিকভাবে বলার কারন এই যে ,আল্লাহ তায়ালা বাহ্যিকভাবে বলার কারন এই যে ,আল্লাহ তায়ালা ব্যক্তিগতভাবে সবকিছু পূর্বেই জানেন।কিন্তু মানুষ কাজ করার পর  তা আমলনামায় লিখিত হয় ।এর মাধ্যমেই কাজটি আইনগত প্রকাশ লাভ করে ।

পূর্ববতি আয়াতসমুহে পার্থিব হেদায়েত ও পৃথিবীতে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে পয়গম্বর প্রেরণ এবং তাদের সাথে কিতাব ও মীযান অবতারণ  সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা ছিল। আলোচ্য আয়াতসমুহে তাদের মধ্যে থেকে বিশেষ বিশেষ পয়গম্বরের  বিষয় আলোচনা করা হচ্ছে। প্রথমে দ্বীতিয় আদম  হযরত নূহ  এবং পরে পয়গম্বরগণের  শ্রদ্ধাভাজন ও মানবমন্ডলির ইমাম হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।এর সাথে ঘোষণা করা হয়েছে যে,ভবিষ্যতে যত পয়গম্বর ও ঐশি কিতাব দুনিয়াতে  আগমন করবে ,তারা সব এদেরই বংশধরের মধ্য থেকে হবে ।অর্থাৎ নূহ (আঃ) এর সেই শাখাকে এই গৌরব অর্জনের জন্যে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে,যাতে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) জন্মগ্রহন করেছেন।এ কারনেই পরবর্তিকালে যত পয়গম্বর প্রেরিত হয়েছেন এবং যত কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে,তারা সব ছিলেন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) -এর বংশধর।                                         এই বিশেষ আলোচনার পর  পয়গম্বরগণের সমগ্র পরম্পরাকে একটি সংক্ষিপ্ত বাক্যে ব্যক্ত করা হয়েছে।          আল্লাহ পাক কুরআনে বলেন , এরপর তাদের পশ্চাতে একের পর এক আমি আমার পয়গম্বরগণকে প্রেরণ করেছি।পরিশেষে বিশেষভাবে বনী -ইসরাঈলের সর্বশেষ পয়গম্বর  হযরত ঈসা (আঃ) এর উল্লেখ করে শেষনবী মুহাম্মদ (সাঃ) ও তার শরীয়ত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

যারা হযরত ঈসা (আঃ) অথবা ইন্জিলের অনুসরণ করেছে,আমি তাদের অন্তরে স্নেহ ও দয়া সৃষ্টি করে দিয়েছি।তারা একে অপরের প্রতি দয়া ও করুণাশীল কিংবা সমগ্র মানবমন্ডলির প্রতি তারা অনুগ্রহশীল ।কেউ কেউ বলেন ঃকারও প্রতি দয়া করার দুটি অভ্যাসগত কারন থাকে ।এক সে কষ্টে পতিত থাকলে তার কষ্ট দূর করে দেওয়া।দুই কোন বস্তুর প্রয়োজন থাকলে তা দান করা মোটকথা আরবি (রফাত) এর সম্পর্ক ক্ষতি দূর করার সাথে  এবং (রহমত) এর সম্পর্ক উপকার অর্জনের সাথে ।ক্ষতি দুর করাকে সর্বদিক দিয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হয়।তাই এই শব্দদ্বয় এক েএ ব্যবহ্রত হলে (রফাত)কে অগ্রে আনা হয়।                   এখানে হযরত ঈসা (আঃ) এর সাহাবী তথা হাওয়ারীগণের দু’টি বিশেষ গুণ (রফাত) ও (রহমত) উল্লেখ করা হয়েছে ।যেমন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর  সাহাবায়ে কেরামের কয়েকটি বিশেষ গুণ  সূরা ফাতহ এর মধ্যে বর্ণনা করা হয়েছে।          এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন ,

অর্থাৎ তারা কাফেরদের প্রতি বজ্রকঠোর। পার্থ্যক্যর কারণ এই যে ঈসা (আঃ) এর শরীয়তে কাফেরদের বিরুদ্ধে জেহাদের বিধান ছিল না।তাই কাফেরদের বিপক্ষে কঠোরতা প্রকাশ করার কোন স্থানই সেখানে ছিল না ।             হযরত ঈসা (আঃ)-এর পর বনী -ইসরাঈলের মধ্যে পাপাচার ব্যাপকাকারে ছড়িয়ে পড়ে বিশেষতঃরাজন্যবর্গ ও শাসকশ্রেণী ইন্জিলের বিধানাবলীর প্রতি প্রকাশ্যে বিদ্রোহ শুরু করে দেয়।বনী ইসরাঈলের মধ্যে কিছুসংখ্যক খাঁটি  আলেম ও সৎ কর্মপরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন।তারা এই ধর্মবিমুখতাকে রুখে দাঁড়ালে তাদেরকে হত্যা করা  হয়। যে কয়েকজন প্রাণে বেঁচে গেলেন তারা দেখলেন যে,মোকাবেলার শক্তি তাদের নেই;                                           খোদায়ী বিধান ও ন্যায়নীতি পালনে বাধ্য করা যায়।(দুই)এতে আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্যে বহুবিধ কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।দুনিয়াতে যত শিল্প-কারখানা ও কলকব্জা আবিষ্কৃত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে হবে,সবগুলোর মধ্যে লৌহের ভূমিকা সর্বাধিক।লৌহ ব্যতীত কোন শিল্প চলতে পারে না।                                                                      এখানে আরও একটি প্রণিধানযোগ্য বিষয় এই যে,আলোচ্য আয়াতে পয়গম্বর ও কিতাব প্রেরণ এবং ন্যায়নীতির দাড়িপাল্লা আবিষ্কার  ও ব্যবহারের আসল লক্ষ্য ।                                                                                                মানুষ যাতে ইনসাফের উপর  প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।এরপর লৌহ সৃষ্টি করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর লক্ষ্যেও প্রকৃতপক্ষে ন্যায় ও সুবিচার  প্রতিষ্ঠা করা ।কেননা পয়গম্বরগণও আসমানি কিতাবসমুহ ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে না,তাদেরকে পরকালের শাস্তির  ভয় দেখান।মীযান ইনসাফের সীমা ব্যক্ত করে ।কিন্তু যারা অবাধ্য ও হঠকারী,তারা কোন প্রমাণ মানে না এবং ন্যায়নীতি অনুযায়ী কাজ করতে সম্মত হয় না ।তাদেরকে স্বাধীন ছেড়ে দেয়া হলে দুনিয়াতে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করা সূদুরপরাহত।তাদেরকে বশে আনা লৌহ ও তরবারির কাজ,যা শাসকবর্গ অবশেষে বেগতিক হয়ে ব্যবহার করে ।এখানে আরও লক্ষ্যণীয় বিষয় এই যে, কোরআন পাক ইনসাফ ও সুবিচার দেনা-পাওনা পরিশোধ ও তাতে হ্রাসবৃদ্ধির নিষেধাঙ্গা জানা যায় এবং মীযান দ্বারা অপরের দেনা-পাওনায় অংশ নির্ধারিত হয়। এই বস্তুদ্বয় নাযিল করার লক্ষ্যই হচ্ছে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। এরপর শেষের দিকে লৌহের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে।এতে ইঙ্গিত আছে যে,ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকল্পে লৌহের ব্যবহার বেগতিক অবস্থায় করতে হবে ।এটা ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার সুবিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত করা প্রকৃতপক্ষে চিন্তাধারার লালন ও শিক্ষার  মাধ্যমে হয়।রাষ্ট্রের তরফ থেকে জোর-জবরদস্তি প্রকৃতপক্ষে এ কাজের জন্যে নয়; বরং পথের বাধা দূর করার জন্যে বেগতিক অবস্থায় হয়ে থাকে।চিন্তাধারার লালন ও শিক্ষা-দীক্ষাই আসল বিষয়।                     মহান আল্লাহ পাক কুরআনে বলেন, আমি লৌহ সৃষ্টি করেছি,যাতে শএুদের মনে ভীতি সঞ্চার হয়,মানুষ এর দ্বারা শিল্পকাজে উপকৃত হয় এবং আইনগতভাবে ও বাহ্যিকভাবে আল্লাহ জেনে নেন কে লৌহের সমরাস্‌এ দ্বারা আল্লাহ ও তার রসুলগণকে সাহায্য করে ও ধর্মের জন্যে জিহাদ করে ।আইনগতভাবে ও বাহ্যিকভাবে বলার কারণ এই যে,আল্লাহ তাআলা ব্যক্তিগতভাবে সবকিছু পূর্বেই জানেন ।কিন্তু মানুষ কাজ করার পর তা আমলনামায় লিখিত হয়।এর মাধ্যমেই কাজটি আইনগত প্রকাশ লাভ করে।

পূর্ববর্তী আয়াতসমুহে পার্থিব হেদায়াত ও পৃথিবিতে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে পয়গম্বর প্রেরণ এবং তাদের সাথে কিতাব ও মীযান অবতারণ সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা ছিল। আলোচ্য আয়াতসমুহে তাদের মধ্যথেকে বিশেষ বিশেষ পয়গম্বরের  বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।প্রথমে দ্বিতীয় আদম হযরত নূহ (আঃ)- এর এবং পরে পয়গম্বরগণের শ্রদ্ধাভাজন ও মানবমন্ডলীর ইমাম হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে ।এর সাথে ঘোষণা করা হয়েছে যে ,ভবিষ্যতে যত পয়গম্বর ও ঐশী কিতাব দুনিয়াতে আগমন করবে, তারা সব এদেরই বংশধরের মধ্য থেকে হবে।অর্থাৎ, নূহ (আঃ) এর সেই শাখাকে  এই গৌরব অর্জনের জন্যে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যাতে হযরত ইবরাহীম (আঃ) জন্মগ্রহণ করেছেন। এ কারনেই পরবর্তিকালে যত পয়গম্বর প্রেরিত হয়েছেন এবং যত কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে,তারা সব ছিলেন হযরত ইবরাহিম (আঃ)-এর বংশধর।                          এই বিশেষ আলোচনার পর পয়গম্বরগণের সমগ্র পরম্পরাকে একটি সংক্ষিপ্ত বাক্য করা হয়েছে।এরপর তাদের পশ্চাতে একের পর এক আমি আমার  পয়গম্বরগণকে প্রেরণ করেছি। পরিশেষে বিশেষভাবে বনী-ইসরাঈলের সর্বশেষ পয়গম্বর হযরত ঈসা (আঃ)-এর উল্লেখ করে শেষনবী মুহাম্মদ (সাঃ) ও তার শরীয়ত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

হযরত ঈসা (আঃ) অথবা ইন্জিলের অনুসরণ করেছে,আমি তাদের  অন্তরে স্নেহ ও দয়া ও করুণাশীল কিংবা সমগ্র মানবমন্ডলীর প্রতি তারা অনুগ্রহশীল।কেউ কেউ বলেনঃকারও প্রতি দয়া করার দু’টি অভ্যাসগত কারণ থাকে।এক,সে কষ্টে পতিত থাকলে তার কষ্ট দূর করে দেয়া।দুই কোন বস্তুর প্রয়োজন থাকলে তাকে দান করা ।                                                                                                      সন্ন্যাসবাদের অর্থঃ                                                                                        হযরত ঈসা (আঃ) -এর  পর বনী-ইসরাঈলের মধ্যে পাপাচার ব্যাপকাকারে ছড়িয়ে পড়ে বিশেষতঃরাজন্যবর্গ ও শাসকশ্রেণি ইন্জিলের বিধানাবলীর প্রতি প্রকাশ্যে বিদ্রোহ শুরু করে দেয়।বনী-ইসরাঈলের মধ্যে কিছুসংখ্যক খাঁটি আলেম ও সৎ কর্মপরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন।তারা এই ধর্মবিমুখতাকে রুখে দাঁড়ালে তাদেরকে হত্যা করা হয়।যে কয়েকজন প্রাণে বেঁচে গেলেন তারা দেখলেন যে,মোকাবেলার শক্তি তাদের নেই;                                                                    কিন্ত এদের সাথে মিলে-মিশে থাকলে তাদের দ্বীন-ঈমান বরবাদ হয়ে যাবে।তাই তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজেদের জন্যে জরুরি করে নিলেন যে,তারা এখন থেকে বৈধ আরাম-আয়েশও বিসর্জন দিবেন, বিবাহ করবেন না, খাওয়া-পরা এবং ভোগ্যবস্তু সংগ্রহ করার চিন্তা করবেন না ,বসবাসের জন্যে গৃহ নির্মানে যত্নবান হবেন না ,লোকালয় থেকে দূরে কোন জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়ে জীবন অতিবাহিত করবেন অথবা যাযাবরদের ন্যায় ভ্রমণ ও পর্যটনে জীবন কাটিয়ে দিবেন যাতে ধর্মের বিধি-বিধান স্বাধীন ও মুক্ত পরিবেশে পালন করা যায়।তারা আল্লাহর ভয়ে এই কর্ম পন্থা অবলম্বন করেছিলেন;তাই তারা তথা সন্ন্যাসী নামে অভিহিত হল এবং তাদের উদ্ভাবিত মতবাদ তথা সন্ন্যাসবাদ নামে খ্যাতি লাভ করেন।                                                                                                           তাদের এই মতবাদ পরিস্থিতির চাপে অপারগ হয়ে নিজেদের ধর্মের হেফাযতের জন্যে ছিল।তাই এটা মূলতঃনিন্দনীয় ছিল না ।তবে কোন বিষয়কে আল্লাহর জন্যে নিজেদের উপর অপরিহার্য করে নেয়ার পর তাতে এূটি ও বিরুদ্ধাচরণ করা গুরুতর পাপ।উদাহরণতঃমানত আসলে কারও উপর ওয়াজিব ও অপরিহার্য নয়।কোন ব্যক্তি নিজে কোন বস্তুকে মানত করতঃনিজের উপর হারাম অথবা ওয়াজিব করে নিলে শরীয়তের  আইনে তা পালন করা ওয়াজিব এবং বিরুদ্ধাচারণ করা গোনাহ হয়ে যায়।তাদের মধ্যে কতক লোক সন্ন্যাসবাদের নামের আড়ালে দুনিয়া উপার্জন ও ভোগ বিলাসে মও হয়ে পড়ে।কেননা,জনসাধারণ তাদের ভক্ত হয়ে যায় এবং হাদিয়া ও নযর-নিয়ায আগমন করতে থাকে।তাদের চারপাশে নারী-পুরুষের ভিড় জমতে থাকে।ফলে বেহায়াপনাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠে।                                                                   আলোচ্য আয়াতে কোরআন পাক এ বিষয়েই তাদের সমালোচনা করেছে যে,তারা নিজেরাই নিজেদের উপর ভোগ বিলাস বিসর্জন দেয়া অপরিহার্য করে নিয়েছিল -আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরয করা হয়নি।এমতাবস্থায় তাদের উচিত ছিল এটা পালন করা,কিন্তু তারা তাও ঠিকমত পালন করতে পারেনি।                         তাদের এই কর্মপন্থা মুলতঃনিন্দনীয় ছিল না ।হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর হাদিস এর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়।ইবনে-কাসীর বর্ণিত এই হাদীস রসুল (সাঃ) বলেনঃ বনি-ইসরাঈল বাহাওর দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।তাদের মধ্যে মাএ তিনটা দল আযাব থেকে মুক্তি পেয়েছে।প্রথম দলটি হযরত ঈসা (আঃ)- এর পর অত্যাচারী রাজন্যবর্গ ও ঐশ্বর্যশালী পাপাচারীদেরকে পূর্ণ শক্তি সহকারে রুখে দাঁড়ায়,সত্যের বাণি সর্বোচ্চ তুলে ধরে এবং ধর্মের প্রতি মানুষকে দাওয়াত দেয়।কিন্তু অশুভ শক্তির মোকাবেলায় পরাজিত হয়ে তারা নিহত হয়।তাদের স্থলে অপর একদল দন্ডায়মান হয়। তাদের মোকাবেলা করার এতটুকুও শক্তি ছিল না,কিন্তু তারা জীবনপণ করে মানুষকে সত্যের দাওয়াত দেয়। পরিণামে তাদেরকেও হত্যা করা হয়।কতককে করাত দ্বারা চিরা হয়ে এবং কতককে জীবন্ত অবস্থায় অগ্নিতে নিক্ষেপ করা হয়।কিন্তু তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিপদাপদে সবর করে । এই দলটিও মুক্তি পেয়েছে ,এরপর তৃতীয় দল তাদের জায়গায় আসে।তাদের মধ্যে মোকাবেলারও  শক্তি ছিল না এবং পাপাচারীদের সাথে থেকে নিজেদের ধর্ম বরবাদ করারও তারা পক্ষপাতী ছিল না।তাই তারা  জঙ্গল ও পাহাড়ের পথ বেছে নেয় এবং সন্ন্যাসী হয়ে যায়।

(দুই)অনুমোদিত কাজকর্মকে বিশ্বাসগতভাবে অথবা কার্যতঃ                       হারাম সাব্যস্ত করে না ,কিন্তু কোন কোন পার্থিব কিংবা ধর্মিয় প্রয়োজনের খাতিরে  অনুমোদিত কাজ বর্জন করে।পার্থিব কিংবা ধর্মিয় প্রয়োজনের খাতিরে  অনুমোদিত কাজ বর্জন করে । পার্থিব প্রয়োজন যেমন কোন রোগ ব্যাধির  আশংকা করে  কোন অনুমোদিত বস্তু ভক্ষণে বিরত থাকা  এবং ধর্মিয় প্রয়োজন-যেমন পরিণামে কোন গোনাহে লিপ্ত হয়ে যাওয়ার আশংকায় কোন বৈধ কাজ বর্জন করা। উদাহরণতঃমিথ্যা,পরনিন্দা ইত্যাদি গোনাহ থেকে আত্ম রক্ষার  উদ্দ্যেশ্যে কেউ মানুষের সাথে মেলামেশায় বর্জন করে ;কিংবা কোন কুস্বভাবের প্রতিকারার্থে কিছুদিন পর্যন্ত কোন কোন বৈধ কাজ বর্জন করতঃতা ততদিন অব্যাহত রাখা,যতদিন কুস্বভাব সম্পূর্ন দূর না হয়ে যায়।সূফি বুযুর্গগণ মুরীদকে কম আহার,কম নিদ্রাও কম মেলামেশার জোর আদেশ দেন।কারণ এটা প্রবৃওি বশীভুত হয়ে গেলে  এবং অবৈধতায় লিপ্ত হওয়ার আশংকা দূর হয়ে গেলে এই সাধনা ত্যাগ করা হয়। এটা প্রকৃত সন্ন্যাসবাদ নয়;বরং তাকওয়া,যা ধর্মপরায়নদের কাম্য এবং সাহাবি,তাবেয়ী ও ইমামগণ থেকে প্রমাণিত।

(তিন) কোন অবৈধ বিষয়কে যেভাবে ব্যবহার করা সুন্নত দ্বারা প্রমাণিত আছে সেইরুপ ব্যবহার বর্জন করা এবং একেই সওয়াব ও উওম মনে করা।এটা এক প্রকার বাড়াবাড়ি,যা রাসুল (সাঃ) এর অনেক হাদিসে নিষিদ্ধ।ইসলামে সন্ন্যাসবাদ নেই। ……

1 thought on “সূরা আল হাদিদ”

Leave a Comment